51 জন পড়েছেন
বগুড়ার সাতমাথায় সমবায় ব্যাংকের ৫ দোকান ছাড়ার নোটিশ, নির্মাণ হবে ‘সমবায় টাওয়ার’
নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া: বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় অবস্থিত শতবর্ষী সমবায় ব্যাংক লিমিটেডের পাঁচটি দোকানঘর দখলমুক্ত করে সেখানে আধুনিক বহুতল ভবন ‘সমবায় টাওয়ার’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময় পার হলেও দোকানঘরগুলো ছেড়ে না দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট ভাড়াটিয়াদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্যাংক পরিচালনা কমিটি।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বগুড়ায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সমবায় ব্যাংক লিমিটেড বগুড়ার সভাপতি এইচ এস মাফতুন আহমেদ খান রুবেল।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী নওয়াব আলতাব আলী চৌধুরীর উদ্যোগে ঊনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে সমবায় ব্যাংকটির যাত্রা শুরু হয়। ১৯১৪ সালে প্রতিষ্ঠানটি নিবন্ধন লাভ করে এবং ১৯২৮ সালে সরকার কর্তৃক অধিগ্রহণের পর সাতমাথায় ব্যাংক ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়। শতবর্ষের বেশি সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি জেলার সমবায়ীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকটির প্রায় শতকোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
ব্যাংকটির সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের বিষয়ে সভাপতি বলেন, ১৯৯২ সালে আজম খান পরিবারের পক্ষ থেকে ভুয়া কাগজপত্রের মাধ্যমে ব্যাংক ভবনের মালিকানা দাবি করে আদালতে মামলা করা হয়। ওই সময় কয়েকজন ভাড়াটিয়ার অসহযোগিতার কারণে ব্যাংক আর্থিক সংকটে পড়ে। ভাড়াটিয়ারা নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ না করে রেন্ট কন্ট্রোলে মাসিক ১১ লাখ ৯১ হাজার ৯০০ টাকা জমা দিতে শুরু করেন। এতে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধেও সংকট তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে মামলাটি একতরফা ডিক্রিতে গড়ায় এবং দীর্ঘ ১৩ বছর আইনি প্রক্রিয়া চলতে থাকে।
তিনি আরও বলেন, ২০০৫ সালের ২৯ নভেম্বর প্রথমবার ব্যাংকের দায়িত্ব গ্রহণের পর বিষয়টি জানতে পেরে নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থ ব্যয় করে মামলাটি পরিচালনা করেন। পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে ব্যাংক পক্ষে সফলতা আসে। ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে নতুন চুক্তির মাধ্যমে দোকানঘর ভাড়া দেওয়া হয়। ২০১১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালনকালে পূর্বের বাংলাদেশ সমবায় ব্যাংক লিমিটেড, ঢাকা থেকে নেওয়া প্রায় ৭৮ লাখ টাকার ঋণও পরিশোধ করা হয় বলে জানান তিনি।
রুবেল বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তৃতীয়বারের মতো সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি জানতে পারেন, কয়েকজন ভাড়াটিয়া নিয়মিত চুক্তি নবায়ন না করে নিজেদের ইচ্ছামতো ভাড়া দিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তাগাদা দেওয়া হলেও কার্যকর সমাধান হয়নি।
তিনি জানান, ব্যাংকের পরিচালনা কমিটির সভায় সাতমাথার পুরোনো ভবন ভেঙে আধুনিক বহুতল ভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রস্তাবিত ভবনের নাম রাখা হয়েছে ‘সমবায় টাওয়ার’। সেখানে জেলার সমবায়ীদের উৎপাদিত পণ্য কেনাবেচার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষের দাবি, সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের চাহিদা অনুযায়ী জেলা সমবায় কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, ভবনের নিচতলার দোকানঘরগুলো অত্যন্ত কম ভাড়ায় দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকজন ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যথাযথ চুক্তিপত্র না থাকার বিষয়টিও উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সমবায় অধিদপ্তর ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পরামর্শক্রমে দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের ৮ ও ৯ নম্বর শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে পাঁচটি দোকানের ভাড়াটিয়াকে গত ২৫ জুন ২০২৬ তারিখে তিন মাসের সময় দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়। নোটিশ অনুযায়ী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দোকানঘর ছেড়ে দেওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও তাঁরা দোকানঘর ছাড়েননি কিংবা ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করেননি বলে দাবি করা হয়।
সভাপতি আরও জানান, গত ২৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে তিনি চতুর্থবারের মতো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। নতুন পরিচালনা পর্ষদ ব্যাংকের সম্পদ ও সমবায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় দোকানঘরগুলো দ্রুত বুঝে নেওয়ার বিষয়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।